**ট্রাম্পের শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে কথিত মন্তব্য মিথ্যা: এএফপি**
আপডেট: ২১ নভেম্বর ২০২৪, ১২:৫০
এএফপি নিশ্চিত করেছে, এই তথ্য মিথ্যা এবং এটি কোনোভাবেই ট্রাম্পের সাক্ষাৎকারের অংশ নয়।
### **ট্রাম্পের সাক্ষাৎকারের প্রমাণ**
গত ৭ অক্টোবর পিবিডি পডকাস্ট চ্যানেলে ট্রাম্পের ওই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়। সাক্ষাৎকারের শিরোনাম ছিল "ডোনাল্ড ট্রাম্প গেটস ইমোশোনাল-স্পিকস অন ট্যারিফস, ওবামা অ্যান্ড ইরান।" এক ঘণ্টা ২৬ মিনিটের এ সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ কিংবা শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে কোনো কথা বলেননি ট্রাম্প।
এ বিষয়ে এএফপি আরও জানায়, ট্রাম্পের এই সাক্ষাৎকার নিয়ে এবিসি নিউজ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানেও বাংলাদেশ সম্পর্কিত কোনো মন্তব্যের তথ্য পাওয়া যায়নি।
### **শেখ হাসিনার পদত্যাগ প্রসঙ্গ**
প্রসঙ্গত, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ভারতে পালিয়ে যান। সেদিনই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ঘোষণা দেন যে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন। তবে সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র দেখেননি। এই মন্তব্যের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনার পদত্যাগ অবৈধ হওয়ার গুঞ্জন ছড়ায় এবং এটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
### **ট্রাম্পের বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে পোস্ট**
তবে ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে, ৩১ অক্টোবর তার ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে একটি পোস্ট করেছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, "আমি বাংলাদেশে হিন্দু, খ্রিস্টান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর বর্বরোচিত সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। দেশটিতে দলবদ্ধভাবে তাদের ওপর হামলা ও লুটপাট চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন পুরোপুরিভাবে একটি বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যে রয়েছে।"
এই পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্টতই বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তবে এই বক্তব্যেও শেখ হাসিনা বা বাংলাদেশের নেতৃত্ব নিয়ে কোনো মন্তব্য ছিল না।
### **সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি**
এএফপি তাদের প্রতিবেদনে আরও জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এসব তথ্য যাচাই না করেই মানুষ শেয়ার করায় বিভ্রান্তি আরও বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এই ধরনের গুজব জনমনে বিভ্রান্তি এবং উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যমগুলো।
**উপসংহার:**
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে ছড়ানো "শেখ হাসিনা এখনো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী" সংক্রান্ত বক্তব্য পুরোপুরি ভিত্তিহীন। এ ধরনের ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
**ট্রাম্পের শেখ হাসিনা নিয়ে কথিত মন্তব্য মিথ্যা:
ডোনাল্ড ট্রাম্প শেখ হাসিনাকে এখনো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছেন—এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ধরনের কোনো মন্তব্য করেননি।
### **কী বলা হচ্ছে এবং সত্যতা কী?**
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারের সূত্র ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয় যে, ট্রাম্প বলেন, “শেখ হাসিনা এখনো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।” এমনকি ট্রাম্প নাকি বলেছেন, “যাঁরা শেখ হাসিনার পদত্যাগের কথা বলছেন, তাঁরা আমাকে পদত্যাগপত্র দেখান।”
ফেসবুকে একটি পোস্টে এর সঙ্গে একটি ছবি জুড়ে দেওয়া হয়। ছবিতে দেখা যায়, পডকাস্ট উপস্থাপক প্যাট্রিক বেট-ডেভিডের সঙ্গে আলাপ করছেন ট্রাম্প। ছবির ওপর বাংলায় লেখা ছিল, “আমি মনে করি হাসিনা এখনো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী: ট্রাম্প।”
তবে এএফপি স্পষ্ট করেছে, ট্রাম্প তার সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বা বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কোনো কথা বলেননি।
### **ট্রাম্পের সাক্ষাৎকার ও প্রমাণ**
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাক্ষাৎকারটি ৭ অক্টোবর পিবিডি পডকাস্ট চ্যানেলে প্রচারিত হয়। সাক্ষাৎকারের শিরোনাম ছিল *“ডোনাল্ড ট্রাম্প গেটস ইমোশোনাল-স্পিকস অন ট্যারিফস, ওবামা অ্যান্ড ইরান।”* এক ঘণ্টা ২৬ মিনিটের এ সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশ বা শেখ হাসিনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
এএফপি এবং এবিসি নিউজের যাচাই করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা মন্তব্য এ সাক্ষাৎকারে উঠে আসেনি।
### **গুজবের সূত্রপাত কীভাবে?**
এ গুজব ছড়ানোর পেছনে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা একটি বড় কারণ। শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই তাকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে।
গত আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ভারত পালিয়ে যান। ওই সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এক বিবৃতিতে ঘোষণা দেন, হাসিনা পদত্যাগ করেছেন। তবে সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি এক সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি হাসিনার পদত্যাগপত্র দেখেননি। এ মন্তব্যের পর থেকেই শেখ হাসিনার পদত্যাগের বৈধতা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
### **ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট**
প্রসঙ্গত, ৩১ অক্টোবর ডোনাল্ড ট্রাম্প তার এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার নিন্দা জানান। পোস্টে তিনি লেখেন, “আমি বাংলাদেশে হিন্দু, খ্রিস্টান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর বর্বরোচিত সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। দেশটিতে দলবদ্ধভাবে তাদের ওপর হামলা ও লুটপাট চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন পুরোপুরিভাবে একটি বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যে রয়েছে।”
তবে এই পোস্টে বাংলাদেশের সরকার বা শেখ হাসিনা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য ছিল না।
### **রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা ও জনমনে বিভ্রান্তি**
এএফপি জানিয়েছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে উসকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
### **শেখ হাসিনা নিয়ে বিতর্কের পটভূমি**
শেখ হাসিনা ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং সামরিক হস্তক্ষেপের ফলে তার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়।
সামরিক বাহিনী এবং রাষ্ট্রপতির সমর্থনে নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নিলেও শেখ হাসিনার সরকারকে কেন্দ্র করে বিতর্ক থেমে নেই। শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর তার পদত্যাগ বৈধ কি না, তা নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার ঝড় উঠেছে।
### **উপসংহার**
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বক্তব্যটি পুরোপুরি মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, ট্রাম্প এমন কোনো মন্তব্য করেননি। বিভ্রান্তি এড়াতে এবং সত্য জানতে ভুয়া খবর যাচাই করার বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে।

No comments: